ভবিষ্যৎ সুন্দর নারায়ণগঞ্জ ও সহনশীল ভ্রাতৃত্বের রাজনৈতিক বন্ধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ও নাগরিক কমিটির নেতারা। নিউজ নারায়ণগঞ্জের আয়োজনে অনলাইন আলোচনায় উঠে আসে তাদের নানা ধরনের পরামর্শ। মো. আকাশের সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন নাগরিক কমিটির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আহমেদ রহমান তনু, মহানগর ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব।
আওয়ামী লীগের শাসন আমলে প্রকাশ্যের রাজনীতিতে না দেখার বিষয়ে মহানগর ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রশিবির আন্দোলনে ছিল না এ কথাটি সত্য নয়। ম‚লত ছাত্রশিবিরকে ফ্যাসিস্টরা এতোটাই কুক্ষিগত করে রেখেছিল, এতটাই চাপিয়ে রেখেছিল যে এটার অন্যতম উদাহরণ হলো সেসময় মিডিয়াগুলো আমাদের নিউজগুলো ছাপাতে পারতো না। আমরা আমাদের প্রোগ্রামগুলো করে যেতাম, বিশেষ করে বিভিন্ন সময় পণ্যের ম‚ল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে, শিক্ষা ব্যবস্থায় যখন বিতর্কিত ইস্যু আসছিল তখনো মহানগর ছাত্রশিবির তাদের ব্যানারে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে, দুই নম্বর রেল গেটে বিক্ষোভ করেছে। এগুলো আমাদের পেজে এখনো আছে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে কারাগারে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। এজন্য আমরা আমাদের প্রোগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হবো, আমাদের কর্মস‚চিগুলো আটকে যাবে তা যেনো না হয় ম‚লত এ কারণেই আমাদের হয়তো প্রকাশ্যে দেখেনি। কিন্তু আমরা প্রকাশ্যেই ছিলাম। গণমাধ্যমগুলো নিউজ করতে পারেনি বলে আমাদেরকে সেভাবে মানুষ জানেনি। আমরা ছাত্র শিবির যে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবো সেটা প্রশাসনের কাছে খবর ছিল তারা জানতো। ২০২২ সালে যখন আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পাল করেছিলাম তখন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি গিয়ে হামলা করেছিল।
ছাত্রদলের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে অমিত হাসান বলে, সারা বাংলাদেশে ছাত্র শিবির আর ছাত্রদল নিয়ে যে বিরোধ সেটা নারায়ণগঞ্জের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আমাদের সঙ্গে ছাত্রদলের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কুয়েটের সমস্যাটা হবার পরই আমি রাজিব ভাইয়ের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমাদের ম‚ল টার্গেট যেখানে যা হোক নারায়ণগঞ্জে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকবো।
নারায়ণগঞ্জের ছাত্রদল ছাত্রলীগের মতো আচার ব্যবহার করার প্রশ্নের উত্তরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিব বলেছেন, ছাত্রদল ছাত্রলীগের পথে হাঁটা কোনো ভাবেই হবার কথা না। কারণ বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে যারা হটাতে চেয়েছে, যারা অপসারণ করতে চেয়েছে, যারা বিদায় চেয়েছে তার অগ্রম‚লে সবার প্রথমে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রদল। সুতরাং যে শক্তিকে জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে, আমরা হামলা-মামলা খেয়ে, বাড়িঘর থেকে বিতারিত হয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়ে যে শক্তি তাকে আমরা পতন ঘটিয়েছি আমরা তো সেই শক্তিটার মতো হওয়ার কোনো কারণই এখানে নাই। তবে আমাদের দলটা যেহেতু একটা বড় দল, সর্ববৃহৎ একটা সংগঠন। সেক্ষেত্রে এ সংগঠনটাকে নিয়ন্ত্রণ করা বা পরিচালনা করাও একটা কঠিন বিষয়। ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা ঘটে যাচ্ছে।
পটপরিবর্তনের পরবর্তীতে যা হয়েছে তার বক্তব্যে রাজিব বলেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য স্থানের মত আমাদের নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজেও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন আমি শিক্ষার্থী, সবগুলো ছাত্র সংগঠন এবং অমিত ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি সমাধান করেছি। শহীদ আবরারের সবশেষ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা দলের ব্যানারে একটা প্রোগ্রাম করতে যাচ্ছিলাম তখন অমিত ভাই আমাদের ব্যানার খুলে নিয়ে গিয়েছিল। সেসময় পরিস্থিতি খারাপের দিক যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আমি অমিত ভাইয়ের সাথে একটা সুন্দর সমাধান করতে পেরেছি। এককথায় যেখানে যাই হোক আমাদের নারায়ণগঞ্জে ছাত্র শিবির আর ছাত্রদলের কোনো বিরোধ নেই। আমরা একে অন্যে মিলেমিশে থাকছি।
সংগঠন চালাতে অর্থের যোগান কোথা থেকে আসে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি আহমেদুর রহমান তনু বলেছেন, আমাদের সংগঠন চালাতে কিংবা সভা-সমাবেশ করতে যে খরচ হয় সেটা সংগঠন থেকে দেওয়া হয়না। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অর্থায়নে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সকল খরচ আমাদেরই বহন করা লাগে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এখন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নাই এখন আছে বিএনপি এবং জামাতে ইসলামী। দুইটাই বড় দল বাংলাদেশে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটি চাইলেই তো এই দুই বড় দলের ব্যানারে কাজ করতে পারে, তারা কেনো করে নাই? ম‚ল বিষয় হচ্ছে আমরা চাই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তো,নতুন চিন্তাধারা।
ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যকার বেশি গুরুত্ব দেওয়া সংগঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনে কে ছাত্রদল করে, কে শিবির করে কিংবা কে নরমাল মানুষ তা যাচাই-বাছাই করা হয়নি। সবাই ছিল ছাত্র-জনতা। সবাই মিলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ সরকারকে সরিয়েছি। রাজিব-অমিতকে আমি বহুদিন যাবত সামনের সারিতে থেকে রাজনীতিটা দেখেছি এবং জুলাই আগস্টেও তারা সামনে ছিল। তাই আমরা ভাগাভাগি করে কাউকে গুরুত্ব দেই না। এককথায় আমরা সবাই মিলে ৫ আগস্ট আগের বাংলাদেশ ভুলে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।
নারায়ণগঞ্জের নাগরিক কমিটিতে ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দের পদ সংখ্যা বেশি দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে উত্তর তিনি বলেন, না। কারণ ছাত্র আন্দোলনে একক কোনো দলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। সকলের সম্মিলিত চেষ্টা সরকার পড়েছে। আমি শিবিরকে পদে রাখতে দেখিনি।
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি নারায়ণগঞ্জে নতুন বন্দোবস্তের উদ্যোগে নাগরিক কমিটি কতোটা ফুটে উঠবে জানতে চাইলে তনু বলে, জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন বন্দোবস্তোর জন্যে প্রতিনিয়ত মানুষের কাছে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। সামনের বাংলাদেশ পুনরায় নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। আমরা এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানুষের সাথে কথা বলে পজিটিভ সাড়া পাচ্ছি। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ অনেক কিছু দেখেছে। মানুষের মুক্তি মিলেছে। আমরা ম‚লত নেতা হয়ে নাই মানুষ হিসেবে মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অনেকে অনেক কথা বলে থাকেন। ম‚লত কথা না বলে কাজ করে দেখানো লাগবে। আসছে রোজায় দ্রব্যম‚লের ঊর্ধ্বগতি নারায়ণগঞ্জে বেড়ে চলেছে। অলরেডি সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটারে চলে গেছে। এগুলো আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :