অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চোখের সামনে নদী তীর দখল করে ঈদ মেলা বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম দিকের কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে তার উপর অস্থায়ী দোকান তৈরী করা হয়েছে। অথচ যেখানে এই অবৈধ স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে তার ঠিক উল্টো দিকে আবার নৌ পুলিশের ফাঁড়ি। তবে তাদের নাকের গোড়ায় নদী ভরাটের মতো গুরুতর একটি অপরাধ করেও আবার দোকান করে সেখানে ঈদ মেলা বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি মহল।
জানা গেছে, ৫ আগষ্টের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুসারীরা নদী তীরের এই জায়গাটি কৌশলে পাশের বড় একটি সরকারি প্রকল্পের বালু এনে ভরাট করে। তখন তারা বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগীতায় কাজটি করেছিলো। এদিকে কিছুদিন আগে তারা সেই জায়গায় ঈদ মেলার জন্য অস্থায়ী দোকান তৈরি করেন বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ী বলেন, জাকির খানের অনুসারী এডভান্স রনি, শহিদুল্লাহ আর মশু খানের নাম ভাঙাইয়া এই কাজটা শুরু করছে। আমরা প্রথমে শুনছিলাম ঘাটের দিদার খন্দকার এটার সাথে জড়িত। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে রনি আর মশুই এটা করতাছে। কার তারাই এই জায়গায় সারাদিন আড্ডা দেয়। তারা তো হাট-ঘাট নদী সব একবারে গিলতে চায়। তাদের কেউ কিছু বলারও নাই। কারণ এরা সন্ত্রাসী এদের সাথে কে আসবো কথা বলতে।
১ নং রেলগেট এলাকার আরো এক ব্যবসায়ী বলেন, জাকির খানের নাম বিক্রি কইরা তার লোকজন নদী দখল কইরা এটা করছে। এখানে তো গত বছর বর্ষায়ও আমরা মাছ ধরছি। এখন সেটা বালু দিয়া ভইরা দোকান দিসে। বিএনপির নামে তা যা শুরু করছে, এসব দেখলেও এখন লজ্জা লাগে। আগের নেতারা এতো ছেচরা আছিল না ভাই।
জানা গেছে, নদী দখল করে এই ঈদ মেলা তৈরির জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ্যের কাছ থেকে কেউ কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। বিনা অনুমোতিতেই তাদের চোখের সামনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এখানে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :