‘জয়বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর মুখে ‘জয়বাংলা’ শোনা গেছে। সেই সাথে পরবর্তীতে তিনি এটা আর সংশোধনও করেননি। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে জেলা পরিষদের উদ্যোগে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন।
এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। এবার ১৪০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। আমারা আশা করবো আগামীতে এই সংখ্যাটা যেন ১৪০ থেকে ২৪০ করা হয়। আর আমাদের কোনো সমস্যা নেই। যে কোনো সমস্যায় আপনারা জেলা প্রশাসকের কাছে আসবেন। উনি অনেক আন্তরিক। এরপর তিনি ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করেন।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘জয় বাংলা’ একটি প্রতীকী স্লোগান হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ পরিণত হয় প্রধান স্লোগানে। অনেক গল্প-সিনেমায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এমনকি সাধারণ মানুষের অসংখ্য বীরত্বগাথা উঠে এসেছে। তবে পরবর্তিতে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে অনেকটা জোর পূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে অনেক রাজনীতিকের উত্থান এ মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এর নির্বাচনেও কুশীলব হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি ছিলেন এমপি। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাত্র ১৭ দিনে আগে গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপিতে জয়েন করিয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করে আলোচনার চূড়ায় উঠেন মোহাম্মদ আলী। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় লোকজন ও নেতাকর্মীদের রয়েছে সু সম্পর্ক।
আপনার মতামত লিখুন :