ঈদের কেনাকাটার জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীর বাজারের ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট এবং ১ নং রেলগেট এলাকার রিভারভিউ শপিং কমপ্লেক্স বেশ জনপ্রিয়। তবে এসব বিপনী বিতানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে বিক্রয়কর্মীদের কাছে চরমভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা।
অভিযোগ উঠেছে, কালীর বাজারের ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেটে এক ক্রেতার সাথে কথা কাটাকাটির জেরে এক ক্রেতাকে ছুরিকাঘাত করে বসে দোকানের বিক্রয়কর্মী। এ ব্যাপারে জানতে ভুক্তভোগীর ওই ক্রেতার পরিচয় বা খোঁজ না পাওয়া গেলেও মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার এক ব্যবসায়ী বলেন, ওই বিক্রয়কর্মী গলাচিপা এলাকার স্থানীয় ছেলে বলে ক্রেতার সাথে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ওই সময় ক্রেতাও তার সাথে তর্ক করলে দুজনের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই ছেলে ছুরি দিয়ে ক্রেতার হাতে আঘাত করে বসে। মার্কেটের কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতা বা মার্কেটের মালিক পক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এখনো।
এদিকে শহরের ১ নং রেলগেইট এলাকায় অবস্থিত রিভারভিউ শপিং কমপ্লেক্সে বা ফারজানা টাওয়ারের রেডিমেট পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সাথে খারাপ আচরণ এমনকি আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিক্রয়কর্মীদের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কাশিপুরের এক যুবক এ বিষয়ে লিখেন, নারায়ণগঞ্জ থানার পাশে ফারজানা টাওয়ারের নিচ তলার এক দোকানে ঈদের জন্য জামাকাপড় কিনতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছি আমি এবং আমার পরিবার। কয়েকটি জামা দেখার পর না কেনায় দোকানদার আমাকে আটকে মারধর করে পাশাপাশি আমার মা, বোন আর দুলাভাইকে অপমান করেছে।
জানা গেছে, দাম সস্তা না হলেও শুধু মাত্র আড়ং-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে ক্রেতারা সম্মানের সাথে কেনাকাটা করতে পারছে। সেখানে ২০ টি পোশাক দেখার পর না কিনলেও কেউ কোনো অভিযোগ করছেনা। তবে অধিকাংশ দোকানে কেনাকাটা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ঝগড়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিক্রয়কর্মীদের সাথে ক্রেতাদের বেশি অপৃতিকর ঘটনা ঘটছে। এরজন্য অবশ্য বিক্রয়কর্মীরা দায়ী করেছেন দোকান মালিকদের।
ফারজানা টাওয়ারের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, মালিকরে বিক্রি কইরা দিতে না পারলে পেনপেন করে। এদিকে কাষ্টমার আইসা জামাকাপড় দেইখা চলে যায়। এমন ঘটনা কয়েকটা ঘটলে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। কারণ মালিকের চাপ থাকে। সেজন্য ক্রেতাদের সাথে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হয়ে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :