ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটে আজমেরী ওসমানের সমর্থকদের একটি ঝটিকা মিছিলে আবারো আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই মিছিলের মধ্য দিয়ে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে মুকিত রহমানের নাম। বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসামনের পুত্র আজমেরী ওসমানের সমর্থকেরা রাতের অন্ধকারে মাস্ক লাগিয়ে ওই মিছিলটি করে।
মিছিল থেকে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়া হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনার আগমনের বার্তা দিয়েও স্লোগান দেওয়া হয়েছে। উচ্চারিত হয়েছে আজেমেরী ওসমানের নাম।
ওই মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে ডান পাশের উপরে ছিলো শেখ মুজিবুর রহমান ও তার নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় এর ছবি। নিচে বড় করে আজমেরী ওসমানের ছবি। বাম পাশে ছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।
ওই মিছিলে সবার মুখেই ছিলো মাস্ক। তাই কাউকেই সেভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মিছিলের সামনে ভাগে মাত্র একজন ব্যক্তিই ছিলেন মাস্ক ছাড়া। তিনি হলে মুকিত রহমান।
সব শেষ অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলেন।
এছাড়াও বিগত সময়ে মুকিত রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে ৯ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে আজমেরী ওসমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুকিতের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনে ঢাকা ব্যাংকের গলিতে ভবনের তৃতীয় তলায় পিজা শামীমের আস্তানা ভেঙে দেয়া হয়। ওই ভবনের তৃতীয় তলায় সিটি ক্লাব অবস্থিত। হামলাকারীরা ক্লাবে ঢুকেই ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। ওই সময়ে ক্লাবে চেয়ার ও টেবিল রেখে অনেকেই জুয়ার আসরে মত্ত ছিল। হামলার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব জুয়ারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে হামলাকারীরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে ভাঙচুর করে চলে যায়।
এছাড়াও পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে মুকিত রহমানের নেতৃত্বে একদল চাঁদাবাজ হাবিব কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের নানা ভাবে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আজমেরি ওসমান মুকিত রহমান সহ তার বাহিনীর সদস্যদের ধরে নিয়ে পেটানোর পর মুকিতকে ছেড়ে দিয়ে বাকিদের পুলিশে সোপর্দ করার খবর পাওয়া গেছে।
সেই মুকিত রহমান আবারো আলোচনায় এসেছে এই মিছিলে মাধ্যমে আবারো আলোচনায় এসেছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ঘা ঢাকা দিয়ে রয়েছে মুকিত রহমান। দীর্ঘদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটিভ হলেও তাকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানের ভিডিও দিতে দেখা যেতো। কিন্তু তাকে নারায়ণগঞ্জে কখনো দেখা যায়নি। এবার এই মিছিলের মাধ্যমে মুকিত রহমানের নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :