আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমী স্নানোৎসব। স্নানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উৎসব এলাকায় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। তবে বন্দরের নবীগঞ্জ থেকে লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব এলাকা পর্যন্ত যাতায়াত পথে নবীগঞ্জ-মিনারবাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। মাত্র সাড়ে ৩কিলোমিটার এই সরু সড়কে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার খান খন্দর। সেই সাথে রাত্রিকালীন সময়ে এই সড়কে কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় উৎসব চলাকালীন সময় সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাই স্নান উৎসবের পূর্বে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সড়কটি সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সহ স্নান উৎসবের আয়োজকরাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর এই স্নানোৎসবে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে থাকে। নারায়ণগঞ্জের বাইরের সারাদেশের সকল জেলা সহ দেশের বাইরে থেকেও পূণ্যার্থীদের আগমন হয়ে থাকে এখানে। কথিত আছে ভারতের কুম্ভু মেলার পর লাঙ্গলবন্দ স্নানই হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহৎ পূণ্যার্থী সমাগম তীর্থস্থান। ইতোমধ্যে উৎসব এলাকায় আয়োজনের প্রস্তুতিতে পুরোদস্তুরে কাজ শুরু করেছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর গুলো।
বিআইডব্লিউটিএ, পিডব্লিউডি, সড়ক ও জনপদ, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তা সার্বিক আয়োজনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা লাঙ্গলবন্দ যেতে সাধারণত দুটি সড়ক ব্যবহার করে থাকে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক দিয়ে সাইনবোর্ড শিমরাইল হয়ে লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ড, অন্যটি হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী পাড় হয়ে নবীগঞ্জ দিয়ে মিনারবাড়ি হয়ে লাঙ্গলবন্দ সড়ক। তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ পূণ্যার্থী যানজটের ঝামেলা এড়াতে নবীগঞ্জ-মিনারবাড়ি সড়ক দিয়ে লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব এলাকায় গিয়ে থাকেন। যানজট এড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীন পরিবেশ এবং দুরুত্ব কম হওয়ায় সবাই এই সড়কটিকেই সুবিধাজনক ও নিরাপদ বলে মনে করেন।
উৎসবের সময় রাত-ভর এই সড়কে পূণ্যার্থীদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। রাত-ভরই পূণ্যার্থীদের যাওয়া আসার ভীড় লেগেই থাকে।
সড়কের অবস্থা ভাল থাকলে নবীগঞ্জ থেকে মিনারবাড়ি হয়ে লাঙ্গলবন্দ ঋষিবাড়ি পর্যন্ত যেতে সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। যাতায়াতের সব থেকে সুবিধাজনক এই রাস্তাটির বর্তমানে বেহাল দশা হয়ে আছে। নবীগঞ্জ থেকে মিনারবাড়ি পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে ছোট বড় সহ¯্র গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা হওয়ায় এই সড়কের রাস্তায় কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে রাত্রের বেলায় এই সড়কে যান বাহনের চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্খা সৃষ্টি হয়েছে।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন ফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয় কে রায় চৌধুরি এ ব্যাপারে বলেন, নবীগঞ্জ থেকে মিনারবাড়ি পর্যন্ত সড়কের অবস্থা আমাদের নজরেও এসেছে। এ ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ভাবে অবগত করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রস্তাব রেখেছি। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন রাস্তাটি সংস্কার করে দেওয়া হবে। আশা করছি স্নান শুরু হওয়ার আগেই রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :