নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাসদাইর বাজার। বাজার থেকে শেরে বাংলা সড়ক দিয়ে কিছুটা উত্তর দিকে গেলেই চোখে পড়বে বেগম রোকেয়া খন্দকার পৌর উচ্চ বিদ্যালয়। এর পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরো একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। পৃথক এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করতে আসেন। তবে তারা এ সময় লেখাপড়ার সাথে দেখেন সমাজের কালো অধ্যায়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে মাসদাইরের বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনের দুটি গলিতে এমন কোনো মাদক নেই যা পাওয়া যায়না।
অভিযোগ রয়েছে, এখানে সকাল সন্ধ্যা প্রকাশ্যে ডেকে ডেকে মাদকের বেচাকেনা চলে। যার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। তবে পারছেনা শুধু প্রতিবাদ করতে। কারণ এর পেছনে রয়েছে মাফিয়া বয়েজ নামে ভয়ঙ্কর একটি অপরাধী চক্র।
১৮ মার্চ দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৪ জনকে আটক করে। তখন সাথে সাথে তাদের উপর হামলা করে ৪ অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। কিন্তু এর আগেই মাফিয়া বয়েজ এর সদস্যরা সশন্ত্র হামলা চালিয়ে সহযোগীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাসদাইর এলাকার ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘এলাকার সব দেয়াল তারা কালি দিয়া লিখে দিসে মাফিয়া বয়েজ। এটা হইল গ্রুপের নাম। ২০ থেকে ৩০ জন আছে গ্রুপে। কিন্তু তাদের লিডার অল্প কয়েকজন। এরা অনেক আগে থেকেই ব্যবসা করে আসছে। আমরা কখনোই তাদের নির্মূল করতে পারিনি। ৫ তারিখের পর উৎপাত আরো বৃদ্ধি পাইসে। জানিনা কিভাবে তাদের হাত থেকে আমরা মুক্তি পামু।’’
মাসদাইরের আরো বাসিন্দা বলেন, স্কুলের বাচ্চাদের সামনে বিক্রি করতাছে। আমাদের বাচ্চারা কি শিখবো বলেন? ওরা তো ছোট থেকেই দেখতাছে কিভাবে লুকাইয়া লুকাইয়া ইয়াবা বেঁচে। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছি এদের দেখতে দেখতে। এখন অনেক বেপরোয়া হয়ে গেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়া বসে থাকে। সিসি ক্যামেরা লাগাইসে যাতে কেউ আসলে আগেই টের পায়। পুলিশের কাছে অনুরোধ যাতে তারা এদের কিছু একটা করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পোড়া কাকন, কসাই রাসেল, কসাই সেলিমসহ একদল মাদক ব্যবসায়ী একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এলাকাটিতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।
তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগীতায় মাদক বিক্রেতারা এতটা বেপরোয়া হতে পেরেছে। এবং এখন তারা নিজেদের রক্ষার জন্য মাফিয়া বয়েজ নামে একটি কিশোর গ্যাংও লালন পালন শুরু করেছে। তাই মাসদাইর থেকে স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূল করতে হলে পোড়া কাকন, কসাই সেলিম ও রাসেল ছাড়াও পর্দার আড়ালে থাকা তাদের শেল্টারদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি বলেন, শুনেছি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনের উপর হামলা করে ৪জনকে ছিনিয়ে নিয়েছে। পরে বিজিবি ও পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। আমরা ওই এলাকার মাদক নির্মূলা যা যা করতে হয় করবো।
আপনার মতামত লিখুন :