নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা ভয়ঙ্কর এক রাজনৈতিক সংষ্কৃতি গড়ে তুলছে। যেখানে এক নেতা আরেক নেতাকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করছেন নোংরা সব মুখের ভাষা। বিষয়টি এমন নয় যে কোনো ছোট বা অপরিচিত বিএনপি নেতা এমনটা করছে। দেখা যাচ্ছে, প্রথম সারির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশের মঞ্চে বা ক্যামেরার সমানে এসে যা খুশি তা বলে যাচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে ঠেকছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তো এ নিয়ে চরম হাস্যরসে মেতে উঠছেন এবং অনেকে এর নিন্দাও করছেন।
গত ১৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত হোসিয়ারী সমিতির ভবন দখলের অভিযোগ করে হোসিয়ারী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাবেক বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান বদু বলেন, হোসিয়ারি সমিতির মিলনায়তন দখল করে টর্চার সেল বানাইছে টিপু। ওরে এরেস্ট করা উচিৎ। অনেকের কাছে আমি এই বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। আমি ওরে বের করার চেষ্টা করতাছি। ও শামীম ওসমানের মাসোয়ারা খাওয়া পালিত কু**।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এতদিন বিএনপির নেতা বলে আইনগত কোন পথে হাটিনাই। কিন্তু এখন যেই অবস্থা তাতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি, আমাকে বলছে ঈদের পর যদি না ছাড়ে তাহলে সবাই মিলে লাথি দিয়ে বের করে দিবে।
বদুর এই মন্তব্যের পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুও রাগে ফেটে পড়েন। বিশেষ করে লাথি দিয়ে বের করে দেয়ার মতো কথা একেবারেই সহ্য করতে পারেনি তিনি। জবাবে টিপুও বদুকে একহাত নিয়ে বলেন, বদু নিষিদ্ধ পতিতা পল্লীর সর্দার ও গন্ডমূর্খ। হোসিয়ারী সমিতি কারো বাবার নাকি? সে আমারে লাথি দিয়ে বের করে দিলে আমি কি আঙ্গুল চুষবো?
এদিকে টিপু-বদুর এই নোংরা ভাষার চালাচালি বন্ধ হতে না হতে আবার এতে নতুন মাত্রা যোগ করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা। স্বেচ্ছাসেবক দলে থাকা তার অনুসারীদের দখল বাণিজ্য থেকে দূরা থাকার পরামর্শ দিতে গিয়ে প্রকাশ্যে সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন যেখানে তার নিজ দলের নেতা (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আতাউর রহমান মুকুলকে চরমভাবে লাঞ্চিত করা হয়। রানা বলেন, আপনেরা কেউ স্বেচ্ছাসেবক দলের থেকে অবৈধ দখল করতে পারবেন না। কেউ আজিক দখল কইরা খাইতে চাইলে কানা মুকুলের সাথে যান। জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই বন্দর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের একটি চোখে দৃষ্টিশক্তি কম। মূলত সেটাকে ব্যাঙ্গ করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজনরাও রানাকে একই ভাবে লাঞ্চিত করে। তবে অনেকে বলছে, দলের সিনিয়র নেতাদের এটার লাগাম টানতে হবে। নইলে এটি দলের জন্য কোনো ভালো খবর নয়।
আপনার মতামত লিখুন :