মহাঅষ্টমী পূণ্য স্নানকালিন সময়ে উপদেষ্টা কমিটিতে ওসমান সমর্থক ও বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী শিপন সরকার শিখন নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে যেন কোনোভাবেই এই কমিটিতে মেনে নিতে পারছেন না। সেই সাথে তাকে যদি এই কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় না হয় তাহলে অপ্রীতিকর ঘটনারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১২ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে অনেকের সাথে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নরায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখনও রয়েছেন যিনি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে ওসমানদের সমর্থনে দীর্ঘদিন ধরে পূজা উদযাপন পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সাথে এখনও বহাল রয়েছেন।
স্নানের উপদেষ্টা কমিটিতে থাকা শংকর সাহ বলেন, শিপন সরকার শিখন আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকের মাঝেই ক্ষোভ রয়েছে। বিগত সময়ে তিনি দাপট দেখিয়েছেন। ওসমানদের প্রভাবে তার শিখনের দ্বারা অনেকেই নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছে। তাই তাকে আর কেউ মেনে নিতে চাচ্ছে না।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ওসমানরা আত্মগোপনে চলে গেলেও এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নরায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখন। ওসমানদের সমর্থনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পূজা উদযাপন পরিষদে দায়িত্ব পালন করে আসলেও এখনও তিনি আগের অবস্থানেই রয়েছেন। আর তাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। যাদের সমর্থনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওসমানদের আনুগত্য করেও শিপন সরকার শিখন দাপট দেখিয়ে আসছেন। এ নিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
একই সাথে ওসমানদের লোক হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামীও হয়েছেন এই শিপন সরকার শিখন। তারপরও মহানগর বিএনপি নেতাদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তাকে কোনো রকম আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়নি।
সবশেষ তাকে নিয়ে নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেই সাথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। একই সাথে সম্মেলন কক্ষে হাতাহাতি না হলেও বাহিরে দফায় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এই সভায় ওসমান পরিবারের অনুসারি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নরায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখনের উপস্থিতি নিয়ে হিন্দু নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। হিন্দু নেতারা ওসমানদের দোসর হিসেবে শিপন সরকারকে মেনে নিতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে শিপন সরকার শিখনকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
পরে তার পক্ষে অবস্থান নেন প্রস্ততি সভায় উপস্থিত থাকা মহানগর বিএনপির নেতারা শিপন সরকার শিখনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা সংক্ষিপ্ত করা হয়। সভা শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দা, ভবনের নিচে এবং প্রধান ফটকের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তারপরও তাকে কমিটিতে রাখা নিয়েছে। যা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :