News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

বিএনপিতে কেউ কাউকে মানছে নারাজ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৫, ১০:৪০ পিএম বিএনপিতে কেউ কাউকে মানছে নারাজ

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি একাধিক প্রবীন ও নবীন নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেও নিয়ন্ত্রণে কেউ কাউকে মানছে নারাজ। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার স্থলে এক সময়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। কিন্তু ১/১১ সরকার ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিএনপি রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে যান অধ্যাপক রেজাউল করিম। ২০২২ সালের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েও বহিস্কার হন তৈমূর আলম খন্দকার।

বর্তমানে বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে আজাদ সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিএনপি কার্যকরী কমিটির সদস্য রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, মামুন মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূইয়া, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, শাহ আলম।

গত বছর ২৪ ডিসেম্বর মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও গোলাম ফারুক খোকনের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি বিলুপ্ত করেন কেন্দ্র। এর এক মাস পর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য কমিটি ঘোষনা করা হয়। এতে করে সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক মন্তব্যে করেছেন। তাদের পিছনে নীরবে আড়ালে রয়েছেন শিল্পপতি শাহ আলম।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে সাখাওয়াত-টিপু বিরুদ্ধে অবস্থান রয়েছেন সাবেক এমপি আবুল কালাম, বহিস্কৃত মুকুল ও কারাবন্দি জাকির খান। এর ছাড়াও মহানগরে ঠাঁই না পাওয়া একাধিক নেতারা সাখাওয়াত-টিপুর বিরোধীতা রয়েছেন। ইতোমধ্যে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে পিটুনী শিকার হয়ে আলোচনায় রয়েছেন টিপু। জেলা যুবদলের সাবেক নেতা বদিউজ্জামান বদু তার বক্তব্যে টিপুকে হোসিয়ারি সমিতির একটি অফিস দখল করে রাখার অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ওসমান পরিবারের লোক বলে আখ্যা দেন। এর ফলে মহানগর বিএনপিতে কেউ কারো মানতে নারাজ প্রকাশ্যে রয়েছেন।

রূপগঞ্জে মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূইয়া বিপরীতে রয়েছেন কাজী মনিরুজ্জামান। প্রবীন ও নবীনদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ইতোমধ্যে জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হয়েছেন দীপু ভূইয়া। এর আগে জেলা বিএনপি সভাপতি দায়িত্ব পালন করে সমালোচিত ছিলেন কাজী মনিরুজ্জামান। তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও নিস্ক্রিয় ছিলেন দীর্ঘ সময়ে। এদিকে তরুণ নেতৃত্বে দীপু ভূইয়া ইতোমধ্যে জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি তরুণদের মধ্যে জায়গা করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দখলবাজীতে এক অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন।

সোনারগাঁয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমের বিপরীতে রয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। ২০০১-২০০৬ সাল চারদলীয় বিএনপি সরকার আমলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রথম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি জেলা বিএনপি সভাপতি হয়েও অভিভাবকদের স্থানে অবস্থান করেছিলেন দীর্ঘ সময়ে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে জেলা রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন তিনি। তার স্থলে সুযোগ সন্ধানে এগিয়ে যান আজহারুল ইসলাম মান্নান। একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হওয়ার সুবাদে তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সামনে যাবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেন। এরই মধ্যে তিনি সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। জেলা বিএনপি একাধিক পদ ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি সভাপতি হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে রাজপথে ফিরে আসেন রেজাউল করিম। এই নিয়ে মান্নান গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টিতে উত্তেজনা বিরাজ করে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সমাবেশে এক মঞ্চে ছিলেন রেজাউল ও মান্নান। ওই সময়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সামনে তাদের মধ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সবদিক মিলিয়ে জেলা উপজেলা বিএনপিতে কেউ কাউকে মানছে নারাজ প্রকাশে করে যাচ্ছেন।

Islam's Group