নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লাতে এক সময়ে যুবলীগ ক্যাডার পলাতক মীর সোহেল আলীর ক্যাডার বাহিনী ক্রমশ বিএনপির সভা সমাবেশে গিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফের আগের মত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি বিএনপির একাধিক মঞ্চে আওয়ামী লীগ করা সেই সব বিতর্কিত ব্যক্তিদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
২৫ মার্চ দুপুরে শিবু মার্কেট এলাকাতে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেখানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, সদস্য রিয়াদ মুহাম্মদ চৌধুরী, সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, বিএনপি নেতা রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ওই মঞ্চে অতিথিদের পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহাদাত, গুলজার, সোহেল প্রমুখ। এরা সকলেই বিগত দিনে শামীম ওসমানের ক্যাডার শাহ নিজাম, মীর সোহেল আলীর অনুসারী ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও মিছিলে উপস্থিত থাকতেন। মঞ্চে উঠেই ছবি তুলেন তারা।
সম্প্রতি কুতুবপুরে যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সেখানেও এক সময়ে ছাত্রলীগ করা কয়েকজনকে রাজীবের মঞ্চে দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি মাসুকুল ইসলাম রাজীব গণমাধ্যমকে জানান, আমি কখনোই আওয়ামী লীগের কাউকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেই না। এখন অনেক সময়ে দেখা যায় আমি বক্তব্য রাখছি পেছনে হঠাৎ কেউ এসে ছবি তুলে সেটাকে নিয়ে স্ট্যান্টবাজি করে। এগুলোর দিকেও আমি নজর রাখছি।
জানা গেছে, ফতুল্লার শিবু মার্কেট, লামাপাড়া, কাঠেরপুল ও আশপাশ এলাকার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাস্টমস কর্মকর্তা মারুফ প্রধান, সোহেল খন্দকার, রবিন, গুলজার সহ আরো কয়েকজন এখন নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তবে মারুফের অভিযোগ সোহেল মূলত প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী। বিগত দিনে মাদক ব্যাবসায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ডিবি কর্তৃক একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
কাঠেরপুল এলাকার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ক্যাডার আজমতের ঘনিষ্ট ছিলেন সোহেল, হবুল, গোলজার হোসেন। ৫ আগস্টের পর এরা সকলেই প্রথমে মারুফের কাছে আশ্রয় নেয়। কাস্টমস অফিসার মারুফ শিক্ষিত হিসেবে এলাকার সবার অনুমতিতে একাধিক গার্মেন্ট হতে ঝুট নামায়। এতে ওই বিএনপি নেতা শুরুতে পার্টনার ছিলেন। কিন্তু সেখানে বড় অঙ্কের একটি টাকার লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর পর থেকেই বিএনপি নেতা মারুফের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেই সঙ্গে সোহেল সহ অন্যরাও মারুফকে ত্যাগ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :