News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে পারেননি গিয়াস বাজিমাত মামুনের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে পারেননি গিয়াস বাজিমাত মামুনের

নাটকীয়ভাবে দলে প্রত্যাবর্তন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ পেয়েছিলেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন। ২০২২ সালের নভেম্বরে জেলা বিএনপির দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর দ্রুততম সময়ে তারেক রহমানকে ভার্চুয়াল কলে রেখে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালেই করিয়ে নিয়েছিলেন সম্মেলন। বিনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে।

কিন্তু টানা দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেও কমিটি স¤প্রসারণ করেননি তৎকালীন সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে বিলুপ্ত করা হয় জেলা বিএনপির কমিটি। গিয়াস উদ্দিন ও খোকনের বহু অনুসারী জেলা বিএনপির কমিটিতে স্থান পেতে মরিয়া হয়ে থাকলেও নিজেদের কমিটি একটুও সম্প্রাসারণ করেননি তারা। এতে যেমন হতাশ হয়েছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। তেমনি হতাশ হয়েছেন নেতাদের নিজ বলয়ের অনুসারীরা।

নতুন করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেক নাটকীয়তার মাধ্যমে জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। এছাড়া যুগ্ম আহবায়ক করা হয় মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, শরিফ আহমেদ টুটুলকে। সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিনকে দেয়া হয় সদস্য পদ।

নতুন এই কমিটি প্রাপ্তির মাত্র দেড় মাসের মাথায় কমিটি স¤প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছেন মামুন মাহমুদ। ২৪ মার্চ রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ৩৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে স্থান পেয়েছেন নতুন ২৯ সদস্য। তারা হলেন, ‘আজহারুল ইসলাম মান্নান, লুৎফর রহমান আবদু, মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, ইউসুফ আলী ভুঁইয়া, শহিদুল ইসলাম টিটু, মাজেদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, আশরাফুর হক রিপন, মজিবর রহমান ভুঁইয়া, মোশতাক আহমেদ, শাহজাহান মেম্বার, শামসুল হক মোল্লা, বাছির উদ্দিন বাচু, আব্দুল বারী ভুঁইয়া, তাসিকুল হক ওসমান, জুয়েল আরমান, মাহমুদুউল্লাহ, একরামুল কবির মামুন, রিয়াজুল ইসলাম, আনোয়ার সাদাত সায়েম, রিয়াদ মো. চৌধুরী, রহিমা শরিফ মায়া, অকিল উদ্দিন ভুঁইয়া, সেলিম হক রুমী, নুরনবী ভুঁইয়া, নাদিম হাসান মিঠু, হামিদুল হক খান।’

কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বলয়ের নেতাদের উপস্থিতি রয়েছে কমিটিতে। মামুন মাহমুদ, দিপু ভুঁইয়া, নজরুল ইসলাম আজাদ, গিয়াস উদ্দিন সকলের অনুসারীদেরই রাখা হয়েছে এখানে। অর্থ্যাৎ কমিটি যেন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে সেই চেষ্টাই করেছেন মামুন মাহমুদ। অন্যদিকে বিগত সময়ে দেখা গেছে সভাপতির এক পেশে কমিটি প্রদানের চেষ্টা। যা দলকে বার বার বিভক্ত করেছে। বিদ্রোহী গ্রুপ তৈরিতে উস্কে দিতেন খোদ নেতাই। এছাড়া মাইনাস করার প্রবনতা ছিলো প্রবল হারে। এদিক থেকে ব্যতিক্রম মামুন মাহমুদ।

মাত্র দেড় মাসের মাথায় কমিটি সম্প্রসারণ করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, ‘মহা প্রতাপশালী গিয়াস উদ্দিন ২ বছরে যা করতে পারেননি। তা দেড় মাসে করে দেখিয়েছে মামুন মাহমুদ। অবশ্য তাঁর সাথে থাকা যুগ্ম আহবায়করাও তাকে সহযোগিতা করেছেন। এর মাধ্যমে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। নিন্দুকের প্রতিও দিয়েছে স্পষ্ট বার্তা। কুক্ষিগত করার মাধ্যমে যে নেতা হওয়া যায় না সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিস্কার ভাবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘জেলা বিএনপি নতুন মাত্রা পেয়েছে কমিটির মাধ্যমে। তৈম‚র আলম খন্দকারের সময়কাল থেকে যে অচলাবস্থা চলছিলো, সেই অবস্থার অবসান হতে চলছে। জেলা জুড়ে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চলমান অরাজকতা আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে এই কমিটির মাধ্যমে এবং সুসংগঠিত হবে বিএনপি এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Islam's Group